হোম

মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বা বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক করার দাবি নিয়ে ১৯৯৯ সালে আমরা কয়েকজন পথে নেমেছিলাম। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন কলেজে এ নিয়ে আমরা কর্মশালা করি। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট মুক্তিযুদ্ধের বা জাতীয় ইতিহাসের পাঠ,পাঠ্যপুস্তক ও দলিলপত্রে বদলে দেয়। এই ধরনের ইতিহাস বিকৃতি আমাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে। আশ্চর্যের বিষয় ঐ সময় ইতিহাস সমিতি, ইতিহাস পরিষদ,এমনকি এশিয়াটিক সোসাইটি বা কোন ঐতিহাসিক এই ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদ করেননি। এমনকি এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাপিডিয়াতেওস্বাধীনতার ঘোষণা ইত্যাদি বিষয়গুলি এড়িয়ে যাওয়া হয় যদিও তা ছিল বাংলাদেশ বিষয়ক-জ্ঞানকোষ’। এ শতকের শুরুতে আমাদের দেশে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বহুলভাবে শুরু হয়। জঙ্গিবাদ ও উগ্র মৌলবাদের বিকাশ ঘটে এবং এসবের প্রশ্রয়দাতা ছিল রাজনৈতিক সরকার। অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিকল্প হিসেবে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার ও কিছু রাজনৈতিক দল। মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত অর্জন বিনষ্টের জন্য ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। এটি সম্ভব হয় প্রায় ত্রিশদশক মুক্তিযুদ্ধের চর্চা করতে না দেয়া ও জানতে না দেয়ার কারণে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই ছিল বিভ্রান্ত। এ কারণে আমাদের মনে হয়-

১. দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজের দেশ সম্পর্কে জানা জরুরি।

২. নিজের দেশ সম্পর্কে জানলে দেশের প্রবাহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সে সচেতন হবে।

৩. দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা থাকলেই তার দেশপ্রেমে গভীরতা আসবে।

৪. মনস্তাত্ত্বিক ভাবে সে নিজেকে শেকড়হীন ভাববে না।

৫. ১৯৪৭-১৯৭৫ সালের ইতিহাস সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে জানাতে হবে।

মূলত এইসব ধারণা কার্যকর করার জন্য অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখি ইতিহাস চর্চার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য একযুগ বিক্ষিপ্ত আন্দোলনের পর আন্দোলন সংহত করার লক্ষ্যে ২০১২ সালে ‘বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী’ যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ্ ইতিহাস সম্মিলনীর সারা বছর ধরেই কোনো না কোনো কর্মসূচি থাকে। সেমিনার, লোক বক্তৃতা, আলোচনা সভা, একক বক্তৃতা, আন্তর্জাতিক সেমিনার, প্রদর্শনী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সম্মিলনীর উদ্যোগে ইতোমধ্যে খুলনায় বাংলাদেশের প্রথম গনহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।

var d=document;var s=d.createElement(‘script’);